হামেশাই তো চেক করছেন প্রেশার! কিন্তু 'নিয়ম' মেনে মাপছেন তো?
হাই ব্লাড প্রেশার-নিঃশব্দ ঘাতকের এক নাম। রক্তচাপ বাড়তে থাকলেই জানবেন বিপদ আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপের কারণেই শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে একাধিক জটিল অসুখ। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা ভীষণ জরুরি। তবে, একটা কথা মাথায় রাখবেন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সবার আগে যেটা দরকার সেটা হল সঠিক ভাবে প্রেশার মাপা। প্রেশার মাপার সময় সামান্য ভুল হলেই আপনার রক্তচাপ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার সমাধান কিন্তু নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে না।
কয়েকবছর আগে পর্যন্তও প্রেশার মাপার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার দরকার পড়লেও এখন অবশ্য আপনি বা বাড়ির যে কেউ, ব্লাড প্রেশার মেশিন ব্যবহার করে রক্তচাপ মেপে দেখতে পারেন। এই প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখা দরকার যে, বাড়ির মেশিনে নেওয়া রিডিংও প্রায় সবক্ষেত্রেই ঠিকই হয়, শুধুমাত্র প্রেশার মাপার সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেক্ষেত্রে কখন মাপবেন, কিভাবে প্রেশার মাপলে সঠিক রিডিং মিলবে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খেতে থাকে বহুজনেরই।
সবার আগে জেনে নেওয়া দরকার কীসে মাপবেন ব্লাড প্রেশার
প্রেশার মাপার জন্য ‘ট্র্যাডিশনাল’ যন্ত্র তো আছেই। তাছাড়া, ইদানিংকালে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রেশার মাপা খুবই সহজ। তাছাড়া, সবচেয়ে সহজ উপায়ে ব্লাড প্রেশার মাপা যায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। বাড়িতে, বেশ কিছু ওষুধের দোকানে এই ধরনের যন্ত্র প্রেশার মাপার জন্য রাখা হয়। মাসে দু’বার মার্কারি বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে ব্লাড প্রেশার মাপার পরেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফের চেক করুন। যদি দেখা যায় মার্কারি বা অ্যানালগের চেয়ে ডিজিটাল যন্ত্রটির পরিমাপে অনেকটাই তফাৎ রয়েছে তাহলে সেই ডিজিটাল যন্ত্রটি পাল্টে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রেশার মাপার সঠিক নিয়ম ধাপে ধাপে
১) প্রথমে চেয়ারের পেছনে হেলান দিয়ে বসতে। মাথায় রাখতে হবে, দুই হাত যেন টেবিলের উপর থাকে। রোগীর হাত যেন হার্টের সমতলে থাকে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ব্লাড প্রেশার মাপার কাফ কনুই থেকে ২.৫ সে.মি উপরে বাঁধতে হবে। খুব ঢিলা অথবা টাইট করে বাঁধা যাবে না। ব্যক্তির চেহারা অনুযায়ী (মোটা, রোগা) কাফের সাইজ পরিবর্তিত হয়।
২) কনুইয়ের উপরে হাত দিয়ে ব্রাকিয়াল ধমনির অবস্থান নির্ণয় করে স্টেথোস্কোপের ডায়াফ্রাম বসাতে হবে।
৩) মিটার স্কেলটি হার্টের সমতলে রাখতে হবে। মনে রাখবেন, বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে ফিরলে আগে কিছুক্ষণ শরীরকে ধাতস্থ হতে দিন। আধ ঘণ্টা মতো বিশ্রাম নিয়ে তার পর রক্তচাপ মাপতে হবে। মলমূত্রের বেগ চেপে রক্তচাপ মাপা ঠিক নয়। সেইসময় রক্তচাপ মাপলে সঠিক ‘রিডিং’ পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি রক্তচাপ মাপার সময়ে চুপ করে থাকতে পারলেই ভাল।বেশি নড়াচড়াও ঠিক নয়। রক্তচাপ মাপার সময়ে চেয়ারে বসে দুই পা মাটিতে রাখতে হবে। পা ক্রস করে বসা অথবা পা দোলালে রিডিং ভুল আসবে। খাওয়ার ঠিক পর পরই কিংবা একদম খালি পেটেও রক্তচাপ মাপা যাবে না। রক্তচাপ মাপার আগে ধূমপান,মদ্যপান নৈব নৈব চ। তাই, এইসব নিয়মগুলো মাথায় রেখেই মাপতে হবে প্রেশার, তবেই নির্ভুল রিডিং পাবেন।





